ময়মনসিংহে ধান সংগ্রহ অভিযান ফ্লপ!

বোরো মৌসুমে ময়মনসিংহ জেলায় খাদ্য বিভাগের সরকারি ধান সংগ্রহ অভিযান সফল হয়নি। গেল বছর ২০১৯ সালে যেখানে বোরো ধান সংগ্রহ অভিযানে লক্ষ্যমাত্রার ২০ হাজার ৪১৫ মেট্রিক টনের মধ্যে শতকরা ৯৯ শতাংশ অর্থাৎ ২০ হাজার ৩৪০ মে.টন অর্জিত হয়েছিলো। সেখানে এবার চলতি ধান সংগ্রহ অভিযানে জেলার লক্ষ্যমাত্রার ৪৩ হাজার ৭৭৩ মে.টনের মধ্যে মাত্র দুই হাজার ৫৮২ মে.টন সংগ্রহ করতে পেরেছে খাদ্য বিভাগ। যা বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার শতকরা ৫ দশমকি ৯০ শতাংশ। এ কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের শতকরা হার দেখে সংশ্লিষ্টরা বলছেন কৃষকের কাছ থেকে এবার ধান সংগ্রহে খাদ্যবিভাগ সম্পূর্ণভাবে ফ্লপ হয়েছে। তবে

খাদ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তা ব্যক্তিরা বলছেন, দেশে কোনও খাদ্য ঘাটতি নেই।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের তথ্য মতে, সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে প্রতিকেজি ২৬ টাকা দরে জেলায় খাদ্য অধিদফতরের বোরো আবাদের ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৪৩ হাজার ৭৭৩ মেট্রিক টন। সেই অনুযায়ী গত ১০ মে থেকে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় খাদ্য গুদামে কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু করে। অভিযানের সময় সীমা শেষ হয়েছে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর)। এই ৫ মাসে জেলার ১৩ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে খাদ্য গুদামে মাত্র দুই হাজার ৫৮২ মে.টন ধান সংগ্রহ করতে পেরেছে। এই হিসাবে ধান সংগ্রহ হয়েছে মাত্র লক্ষ্যমাত্রার শতকরা ৫ দশমকি ৯০ শতাংশ। উপজেলাভিত্তিক

লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান সংগ্রহ অভিযানের অগ্রগতি হিসেবে ময়মনসিংহ সদর ও সিএসডি গুদামে লক্ষ্যমাত্রার তিন হাজার ৪৬৬ মেট্রিক টনের বিপরীতে ধান সংগ্রহ করা হয়েছে ৪৬৪ দশমিক ৬৮ মেট্রিক টন, মুক্তাগাছা উপজেলায় তিন হাজার ৪১৫ মেট্রিক টনের বিপরীতে ১৮৫ দশমিক ৪৮ মে.টন, ফুলবাড়িয়া উপজেলায় তিন হাজার ৭০৮ মেট্রিক টনের বিপরীতে ১২২ মে.টন, ত্রিশাল উপজেলায় তিন হাজার ৫০৪ মেট্রিক টনের বিপরীতে ৯.৪৮ মে.টন, গফরগাঁওয়ে তিন হাজার ৭৮১ মেট্রিক টনের বিপরীতে ২৩৯ দশমিক ১২ মে.টন, ভালুকা উপজেলায় দুই হাজার ৪১৩ মেট্রিক টনের বিপরীতে ১৫৪ দশমিক ১২ মে.টন, নান্দাইলে তিন হাজার ৮৯৯ মেট্রিক টনের বিপরীতে ৬৫.২৪

মে.টন, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় তিন হাজার ৫৮০ মেট্রিক টনের বিপরীতে ১২৭.৪৪ মে.টন, গৌরীপুরে তিন হাজার ৬০৮ মেট্রিক টনের বিপরীতে ৩০.৫৬ মে.টন, ফুলপুরে তিন হাজার ৮৬৪ মেট্রিক টনের বিপরীতে ১১৪.১২ মে.টন, তারাকান্দায় দুই হাজার ৮৪৬ মেট্রিক টনের বিপরীতে ৬.২৮ মে.টন, হালুয়াঘাটে তিন হাজার ৪২০ মেট্রিক টনের বিপরীতে ৫৪৯ মে.টন ও ধোবাউড়ায় দুই হাজার ২৬৯ মেট্রিক টনের বিপরীতে মাত্র ৫২৪ মে.টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ সদরের চরঈশ্বরদিয়া গ্রামের কৃষক আলমগীর হোসেন জানান, এবার সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া প্রতিকেজি ২৬ টাকা দরের বিপরীতে বোরো কাটার শুরু থেকেই বাজারে প্রায় কাছাকাছি দাম ছিল। এরপর দিনে দিনে বাজারে ধানের দাম বাড়তে থাকে। এবার বাজার দর ভালো পাওয়ায় কৃষকরা ধান গুদামে দেয়নি।

তিনি আরও জানান, এর আগে গেল বছর সরকারি খাদ্য গুদামে বোরো ও আমন ধান বিক্র করতে গিয়ে কৃষকদের নানা হয়রানির শিকার হতে হয়েছিলো। তাই খাদ্য কর্মকর্তাদের কাছে হয়রানির শিকার কৃষকদের গুদামে ধান বিক্রি করতে তেমন একটা আগ্রহ ছিল না। এসব কারণেই খাদ্য বিভাগের বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে দাবি করেন এই কৃষক।

লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না করতে পারার বিষয়টি স্বীকার করে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জহিরুল ইসলাম জানান, বাজারে কৃষকরা ধানের ভালো দর পাওয়ায় খাদ্য গুদামে ধান দিতে তারা আগ্রহী হয়নি। এ কারণে ধান সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তবে ধানের বাজার দর ভালো পাওয়ায় কৃষকরা লাভবান হয়েছে বলে জানান তিনি।

খাদ্য অধিদফতরের মহা-পরিচালক সারওয়ার মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বাজারে এবার ধানের দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকরা গুদামে ধান দেয়নি। ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হলেও খাদ্য ঘাটতি হবে না দাবি করে তিনি আরও জানান, সরকারি খাদ্য গুদামে এখনও ১৫ লাখ মে.টন চাল সংগ্রহে রয়েছে।

 

সর্বশেষ সংবাদ