হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি আমিরাত-বাহরাইনের

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক সময় দখলদার শক্তি হিসেবে বিবেচিত হওয়া ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে উপনীত হয়েছে দুই আরব দেশ। ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার এ চুক্তিতে উপনীত হয় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন। হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে এ চুক্তি সম্পাদিত হয়। এ চুক্তিকে 'নতুন মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাত' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ট্রাম্প।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘কয়েক দশকের বিভক্তি এবং সংঘাতের পর আমরা নতুন এক মধ্যপ্রাচ্যের উত্থানের সূচনা করছি। আজ আমরা এখানে জড়ো হয়েছি ইতিহাস বদলে দিতে।’

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘এই দিনটি ইতিহাস পরিবর্তনের ক্ষণ, শান্তির নতুন দিগন্তের সূচনা।’

ফিলিস্তিনি নেতারা অবশ্য মনে করেন, ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর দখলকৃত অঞ্চল থেকে ইসরায়েল সরে গেলেই কেবল মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন, ‘ইসরায়েলের অধিগ্রহণের সমাপ্তি না হলে ওই অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরবে না।’

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে ১৯৪৮ সালে বলপূর্বক একটি রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ইসরায়েল। প্রথম থেকেই আরব ও মুসলিমরা ইসরায়েলকে একটি দখলদার শক্তি হিসেবেই বিবেচনা করে আসছে। ফলে পুরো অঞ্চলের রাজনীতিতে এক ধরনের বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকতে হয়েছে তাদের। এখন সৌদি প্রভাব বলয়ের দুই দেশ আমিরাত-বাহরাইনের সঙ্গে চুক্তির মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলে নিজের বিচ্ছিন্ন অবস্থা কাটাতে সমর্থ হলো ইসরায়েল। এছাড়া আরবদের সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে আসায় জেরুজালেমের আল আকসা মসজিদের ব্যাপারেও এখন আরও শক্ত অবস্থান নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে দেশটির। কেননা, একাধিক মুসলিম দেশ এরইমধ্যে

ইসরায়েলকে মেনে নিয়েছে। দুবাইতে এমনকি হোটেলগুলোতে ইহুদি খাবার রাখতে সরকারি নির্দেশনা পর্যন্ত জারি করা হয়েছে।

সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের প্রকাশ্য কোনও ঘোষণা না এলেও গত কয়েক বছর ধরেই দেশ দুটির গোপন সম্পর্কের কথা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়ে আসছে। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েল ইস্যুতে কথা বলেন এমবিএস নামে পরিচিত সৌদি যুবরাজ। তিনি বলেন, বহু বিষয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া ইসরায়েল রাষ্ট্রের অস্তিত্বের অধিকারের পক্ষে নিজের অবস্থানের কথা জানান এমবিএস। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের পাশাপাশি ইসরায়েলিদেরও তাদের নিজেদের ভূমিতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের ‘অধিকার’ রয়েছে।

সম্প্রতি ইসরায়েল-আমিরাতের মধ্যকার ফ্লাইট চলাচলের জন্য সৌদি আকাশসীমা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ট্রাম্প। দৃশ্যত রাজতান্ত্রিক আরব সরকারগুলো ক্রমেই ইসরায়েলকে মেনে নিচ্ছে। তবে আরব দেশগুলোর এমন অবস্থানকে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন দেশটির রাজনীতিকরা। সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স।

সর্বশেষ সংবাদ